আতঙ্কের রোগ ডায়াবেটিসের ব্যাপারে জেনে রাখুন এই তথ্যগুলো!

[X]

রীতিমতো মহামারীর মতো ইদানিং পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে ডায়াবেটিস রোগটি। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন আপনার পরিচিত মানুষের মাঝে এমন কেউ আছেই যে ডায়াবেটিসে ভুগছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে একজন মানুষকে অসুস্থ করে দেওয়া এই রোগটির ব্যাপারে আসলে আমরা কতটুকু জানি? বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মাঝে থাকে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। দেখে নিন ডায়াবেটিসের ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য যা হয়তো আপনিও জানেন না।

১) ডায়াবেটিস মানে শুধু চিনি খাওয়া বাদ নয়: অনেকেই ভাবেন ডায়াবেটিস হয়েছে মানে কেবল রোগী চিনি খেতে পারবেন না। এছাড়া আর কোনো বৈশিষ্ট্য নেই এই রোগের। আসলে কিন্তু তা নয়। বরং এই রোগটি এতোই জটিল যে কেবল ভুক্তভোগীই বোঝেন ডায়াবেটিস হলে কতো ঝামেলা পোহাতে হয় তাকে।

২) ডায়াবেটিসের রয়েছে বিভিন্ন টাইপ: টাইপ ওয়ান, টাইপ টু এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে। সবগুলোতেই রোগীর শরীরে ইনসুলিনের অভাব দেখা যায়। কিন্তু একেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেক রকমের এবং প্রভাবটাও হয় আলাদা। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস কখনো টাইপ টু-তে রূপান্তরিত হয় না।

৩) টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের সাথে খাদ্যভ্যাস বা জীবনযাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই: টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রোগীর অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলোকে শরীর নিজেই মেরে ফেলে ফলে ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না। এটা সাধারণত ৪০ বছর বয়সের নিচে দেখা যায়। কিন্তু যে কারও হতে পারে। বাঁচার জন্য এসব মানুষের ইনসুলিন নিতেই হয়।

৪) ইদানিং অনেক কম বয়সী মানুষেরও ডায়াবেটিস হয়: আগে দেখা যেত বয়স্ক, ভারি শরীরের মানুষদেরই বেশি ডায়াবেটিস হয়। কিন্তু ইদানিং অনেক কম বয়সী মানুষেরও ডায়াবেটিস হতে দেখা যাচ্ছে। এর সাথে বংশগতির সম্পর্ক আছে। তার পাশাপাশি আছে জীবনযাত্রার সম্পর্ক। পেটে মেদ জমার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৫) ডায়াবেটিস হবার পর জীবনে এর প্রভাব অনিবার্য: যে ধরণের ডায়াবেটিসই হোক না কেন, রোগীর জীবনে আসে বেশ কিছু পরিবর্তন। যেমন আঙ্গুল ফুটো করে ব্লাড গ্লুকোজ মাপা, মেপে মেপে শর্করা খাওয়া, ইনসুলিন ইনজেকশন নেওয়া ইত্যাদি। গ্লুকোজ লেভেল ঠিক না থাকলে হতে পারে অন্ধত্ব, কিডনি ফেইলিওর, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং নার্ভ ড্যামেজ। জীবনের প্রতিটি বিষয়ই গ্লুকোজ লেভেল বাড়া-কমার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এ কারণে গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখাটা রোগীর জন্য খুব কষ্টকর এবং ঝামেলার মনে হতে পারে। শুধু তাই না, ডায়াবেটিসের কারণে রোগী ভুগতে পারেন বিষণ্ণতায়। বার্ন আউটের সমস্যাটা দেখা যায় অনেকের মাঝেই। অর্থাৎ রোগী নিজেকে খুব ক্লান্ত মনে করেন, নিজের যত্ন নেবার ইচ্ছেটাও চলে যায় তার মধ্য থেকে। বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিক বার্ন আউটের ঝুঁকি বেশি থাকে।

৬) প্রিয়জন পাশে থাকা খুবই জরুরী: ডায়াবেটিসের সাথে একা একা যুদ্ধ করাটা রোগীর জন্য কষ্টকর। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সাপোর্ট তার জন্য খুবই জরুরী। এতে তারা নিজের পরিস্থিতির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। সব সময়ে শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

ছোট ছোট ব্যাপারগুলোই অনেক বড় অবদান রাখতে পারে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে। নিজের যত্ন নিন, প্রিয়জনের সাহায্য নিন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *