ব্যস্ত জীবনে ঝটপট রান্না আধুনিক সুবিধা!

[X]

অফিসের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা, সংসারের দায়িত্ব—এ সময়ের কর্মজীবী নারীদের প্রতিদিনের রুটিন। এর মধ্যে রান্নাবান্না নিজ হাতে করতে হলে তো কথাই নেই। তবে ব্যস্ত জীবনের কাজগুলো সহজে দ্রুত করার জন্য নানা ধরনের যন্ত্রপাতিও রয়েছে। একটু হলেও স্বস্তি পাওয়া যায়। আধুনিক পরিবারে স্বামী ও সন্তান এসব ব্যবহার করে খাবার রান্না কিংবা গরম করার কাজটা করে নিতে পারেন। এসব যন্ত্রপাতির দামটা এখন হাতের নাগালে।

 

‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই রাঁধি। রাইস কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফ্রিজ, ব্লেন্ডার, ড্রায়ার, ওভেন—রসুইঘরের এসব যন্ত্র আমাদের কর্মজীবী নারীদের জীবনযাত্রা অনেকটা সহজ করে তুলেছে। আমি অফিেস থাকলে স্বামী আর ছেলেই ওভেনে খাবার গরম করে খেয়ে নেয়। আলু কেটে দিলে বাজারে নতুন আসা ড্রায়ার মেশিনে ছিলে একাই আলু ঢুকিয়ে দিয়ে ২০ মিনিটেই স্ন্যাকস বানিয়ে নিতে পারে।’ কথাগুলো বলছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপিকা টুম্পা হাসান।

গৃহস্থালির আধুনিক এসব গ্যাজেট বা সরঞ্জামের ব্যবহার ও যত্নআত্তি নিয়ে জানালেন রান্নাবিদ সিতারা ফিরদৌস। গত মাসে বইমেলায় তাঁর লেখা স্মার্ট কিচেন নামে একটি বই বেরিয়েছে। বইটিতে নানা রকম যন্ত্রপাতির কথা আছে। সেগুলো দিয়ে কীভাবে নানা পদ রান্না করা যায়, তারও উল্লেখ রয়েছে। সিতারা ফিরদৌস বললেন, অল্প সময়ে ভাত রান্নার জন্য নিেত পারেন রাইস কুকার। এ ছাড়া এতে সবজি এমনকি মাছও রান্না করা যায়। কুকারে ভাত রেঁধে আপনাকে হয়তো কোথাও যেতে হবে। যাওয়ার আগে কুকারে ম্যানুয়েল থেকে টেম্পারেচার ঠিক করে দিয়ে গেলে যখনই বাসায় ফিরবেন ভাত গরম থাকবে এবং নষ্ট হবে না।

মসলা বাটার ঝামেলা মিটিয়ে দিয়েছে ব্লেন্ডার। সহজে যেকোনো মসলা ব্লেন্ড করে নিতে পারবেন। ফ্রিজে রান্না করে চার-পাঁচ দিন খাবার রেখে খেতে পারেন। অতিথি কিংবা নিজেদের জন্য মাংস বা অন্য কোনো খাবার ম্যারিনেট করে রাখা যায়। ড্রায়ারে যেকোনো স্ন্যাকসের জন্য উপকরণে তেল ব্রাশ করে দিলে ২০ মিনিটেই সেটা তৈরি হয়ে যায়। এ ছাড়া চট করে সকাল বা বিকেলের স্যান্ডউইচ বানানোর জন্য স্যান্ডউইচ মেকার আর টোস্টার তো আছেই।

প্রেশার কুকার তাপ ও চাপে দ্রুত রেঁধে দেয়। অ্যালুমিনিয়ামের এই আধুনিক হাঁড়িতে সাধারণত মাংস রান্না করা হয়। কুকারের সংকেতে (শিস) বুঝতে পারবেন রান্না কতটা এগিয়েছে। এসব সরঞ্জামে রান্না করলে আলাদা পাত্রে পরিবেশন করতে হয় না বলে বাসন ধোয়ার সময়টাও বেঁচে যায়। দ্রুত রান্নার আরেকটি মাধ্যম মাইক্রোওয়েভ ওভেন। খাবার গরম থেকে শুরু করে এতে রান্না পর্যন্ত করা যায়। আছে ইলেকট্রিক ও গ্যাস ওভেনও।

 

খাবার সংরক্ষণ : সিতারা ফিরদৌস বললেন, ‘খাবার সংরক্ষণ করতে হলে সালাদ-জাতীয় উপাদান খাবারে দেওয়া যাবে না। যেমন পেঁয়াজ, আলু বা টমেটো। ভুনা কিংবা শুকনো খাবার সংরক্ষণ করতে পারবেন। খাবার ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে রাখতে হবে। প্রতিটি খাবার আলাদা পাত্রে (কনটেইনার) সংরক্ষণ করতে হবে এবং গরম করার জন্যও আলাদা কনটেইনার ব্যবহার করুন। অবশ্যই খাবার ঢেকে রাখতে হবে, খাবারের গন্ধ দূর করার জন্য ফ্রিজে এক টুকরা লেবু রেখে দিতে পারেন।

যত্ন : মাইক্রোওভেন, কুকার, ব্লেন্ডার ব্যবহার করে সঙ্গে সঙ্গে ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর কাপড় দিয়ে মুছে শুকিয়ে রাখতে হবে। ফ্রিজের ক্ষেত্রে দুই-তিন সপ্তাহ পরপর ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দুজনেরই সুবিধা : বৈদ্যুতিক আর ইলেকট্রনিকস যন্ত্রের কল্যাণে নারী-পুরুষ সবার কাছে রান্না এখন কিছু সময়ের ব্যাপার মাত্র। ব্যবসায়ী মীর মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী শিক্ষক। ব্যস্ততার কারণে রান্নার সময় পান না। রান্না আমার কাছে একটি শিল্পের মতো। বাসায় থাকলে ঝটপট কিচেন বোর্ড, ছুরি, ননস্টিক প্যান ব্যবহার করে রান্না করে ফেলি। ব্লেন্ডারে মসলাপাতিও ব্লেন্ড করে নেওয়া যায়। আমি সাধারণত রান্নার সময় চুলাই ব্যবহার করি। দিনের খাবার ফ্রিজেই রাখেন, যে যার সুবিধামতো ওভেনে গরম করে খেয়ে নেয়।’

 

বাজার ঘুরে 

1/ রাইসকুকার : রাইসকুকার দেড় হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যেই মিলবে যেকোনো ব্র্যান্ড। ছোট আকারের রাইস কুকার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

1/ প্রেশার কুকার: বাজারে এক থেকে ছয় লিটার ধারণক্ষমতার প্রেশার কুকার পাবেন। দাম ৭০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যান্য প্রেশার কুকারের দাম পড়বে ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। ভারতের পেস্ট্রিজ ও হকিন্স কোম্পানির প্রেশার কুকার কেনা যাবে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

2/ ওভেন: ওভেনের দাম ২ হাজার ৭০০ থেকে ৭ হাজার টাকা। মাইক্রো ওভেনের দাম ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডারের দাম ২ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

3/ জুসার : জুসারের দাম পড়বে ৩ হাজার ৯০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ৬ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের ফ্রিজ পাওয়া যায়।

4/ ফিল্টার : সাধারণ ফিল্টার পাবেন ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর এর চেয়ে একটু উন্নত মানের ফিল্টারের দাম তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক ফিল্টারের দাম আড়াই হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রধান পানির লাইনের সংযোগে বসানো ফিল্টারের দাম ২২ হাজার টাকা।

5/ চুলা :  ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক চুলা পাবেন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

6/ কাটার : সবজি কাটার বিভিন্ন ব্র্যান্ড রয়েছে। ছোট-বড় পাঁচ থেকে সাতটি মডেলের ইলেকট্রিক কেটলি পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *