মেয়েদের সৌন্দর্যচর্চায় ভ্রু ও এর সম্পর্কে কিছু টিপস!

[X]

সাজের বড় অংশ জুড়ে থাকে চোখ। আর চোখের সাজ তখনই পূর্ণতা পায়, যদি ভ্রু হয় সুন্দর। অনেকেই মনে করেন ভ্রু একভাবে তুললেই হল। বিষয়টা আসলে তেমন নয়। বরং খুব সচেতনভাবে, সময় নিয়ে এবং ভালো জায়গা থেকে ‘ভ্রু প্লাক’ করা উচিত।

ভ্রর’র নানান দিক নিয়ে তথ্য দিয়েছেন ওম্যান’স ওয়ার্ল্ড বিউটি পার্লারের প্রধান কণা আলম। চলুন জেনে নিই সেই টিপস গুলো কি কি।

ফ্যাশন-সচেতন তরুণীরা স্টাইলের একঘেঁয়েমি ভাব কাটানোর জন্য হরহামেশাই চুলের কাটে ও সাজের ধরনে পরিবর্তন আনেন। তবে শুধু চুলের কাটেই কেন? চেহারায় নতুনত্ব আনতে চাইলে ভ্রু’র আকৃতিতেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই মুখের সঙ্গে মানানসই হতে হবে। ভ্রু প্লাকের ওপরেই চেহারার ভাব পরিবর্তন হয়ে যায়। হয়ত কখনও রাগী লাগে, কখনও বা লাগে বেশি নমনীয়।

সৌন্দর্যচর্চায় ভ্রু ও এর সম্পর্কে কিছু টিপস-

ভ্রু রাখার ধরন-
একসময় চিকন ভ্রু রাখার প্রবণতা দেখা গেলেও, এখন আবার সেই মোটা ভ্রু রাখার চল ফিরে এসেছে। সব যুগে এবং সব কালেই মোটা ও ঘন ভ্রু’র একটা আলাদা আবেদন ছিল, যা এখনও আছে। ভ্রুর আকৃতির হালকা রকমফের করলে পুরো চেহারার আদলই পাল্টে যেতে পারে।

তাই ভ্রু মোটা রাখলেও তা কোন আকৃতিতে প্লাক করলে সুন্দর দেখাবে, সেটা জেনে নেওয়া ভালো।
লম্বাটে মুখের মেয়েদের গোল আকৃতির ভ্রু’তে এবং যাদের মুখ গোলাকৃতির তাদের ভ্রু ‘ভি’ আকৃতি রাখলে বেশি মানায়। যাদের ভ্রু এমনিতেই অনেক ঘন ও কালো তাদের ভ্রু’র আকার কোনো প্রয়োজনই নেই। মেইকআপ নেওয়ার পর ব্রাশ দিয়ে হালকা করে আঁচড়ে নিলেই চলবে।

যাদের কপাল ছোট ও সামান্য উঁচু, তাদের ভ্রু বেশি মোটা না রাখলেই ভালো দেখায়। অন্যদিকে চোখের পাতা ছোট যাদের, তাদের মোটা আকৃতির ভ্রু’তে দেখতে বেশি ভালো লাগে না। যাদের জোড়া ভ্রু, তারা যদি মোটা রাখতে চান, তাহলে দুই ভ্রু’র মাঝখানের জোড়া অংশটুকু প্লাক করে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

চোখের আকার বুঝে ভ্রু-
চোখের আকার বুঝেও ভ্রু’র আকার ঠিক করা উচিত। যাদের চোখ অপেক্ষাকৃত ছোট, তাদের ভ্রু চিকন করে তোলা উচিত। আবার যাদের চোখের আকার কিছুটা বড় এবং টানা তাদের ভ্রু প্যাক করতে হবে মোটা করে। তবে এই মোটা ভাব যেন মুখের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যে সুতা দিয়ে ভ্রু প্লাক করা হচ্ছে, ওই সুতা কিছুক্ষণ স্যাভলন বা ডেটল মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ভালো হয়।

ভ্রু প্লাকের পর বরফ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিলে ফোলা ভাব কেটে যায়। এরপর হালকা কোনো ক্রিম দিয়ে মালিশ করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাজে ভ্রু- 
চোখের সাজ শুরু করার আগে ভ্রুর দিকে নজর দিন। ভ্রু’র বাড়তি চুলগুলো উঠিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ছোট শক্ত ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে শেইপ দিতে হবে। আইব্রো পেন্সিলের হালকা ছোট ছোট টানে ভ্রু দু’টিকে গাঢ় করে নিতে পারেন।                                                  

ভ্রুর নিচ থেকে চোখের ওপরের পাতা অর্থাৎ আইলিড অংশতে আইশ্যাডোর হালকা প্রলেপ লাগান। ভাঁজ অংশতে লাগান গাঢ় করে এবং এটি বাইরের দিকে উঠিয়ে উঠিয়ে মিলিয়ে দিন। আইলিডের ঠিক মাঝখানে ও ভ্রু’র নিচে হাইলাইটার লাগান। যা ব্রোঞ্জ রংয়ের হতে পারে। কালো বা রঙিন আইলাইনার দিয়ে চোখের ধার ঘেঁষে আউটলাইন আঁকুন। রেখাটি শুরু হবে চোখের ভেতরের কোণা থেকে এবং ক্রমশ মোটা হয়ে যাবে। বাইরের কোণায় সামান্য উঠিয়ে দিন রেখাটি। চোখের নিচের পাতায় কাজল লাগান অথবা সামান্য আইশ্যাডো লাগাবেন চোখের বাইরের কোণা থেকে পাতার মাঝখান অবধি।

হালকা রংয়ের পেন্সিলের রেখা যদি টেনে দেন নিচের পাতার ভিতর দিক দিয়ে তবে চোখ সামান্য বড় দেখাবে। এরপর লাগান মাস্কারা।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ভ্রু গজানোর উপায়-
সঠিক ভাবে, সঠিক আকারে না রাখলে পুরো চেহারায় ভ্রু হয়ে ওঠে বেমানান। যতই সৌন্দর্য চর্চা করা হোক ভ্রু আকর্ষণীয় না হলে পুরো সাজই নষ্ট। ঘরে একটু যত্ন নিতে পারলে অনেক দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

১/ক্যাস্টর অয়েল: এতে আছে অসাধারণ রাসায়নিক মিশ্রণ যা অন্যান্য বীজ ও তেলে খুব কমই লক্ষ করা যায়। ক্যাস্টর অয়েল আঙুলে মাখিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করুন ভ্রুতে এবং কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিন। ৩০ মিনিট পরে হালকা গরম পানি এবং ফেইস ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন এই পদ্ধতি চালিয়ে গেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
তবে জ্বালাপোড়া করলে বন্ধ করে দিতে হবে।

২/নারকেল-লেবুর মিশ্রণ: চার ভাগের এক ভাগ নারিকেল তেলের সঙ্গে খোসা ছাড়ানো পাতলা করে কাটা লেবুর টুকরা একটা পরিষ্কার পাত্রে রেখে দিন সারা রাত। এই মিশ্রণ রাতে ঘুমানোর আগে তুলোয় লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সূর্যের আলোতে কখনও নয়।

৩/পেঁয়াজ: এর ঝাঁঝালো উপাদান ভ্রু গজানোতে অনেক দ্রুত সাহায্য করে। পেঁয়াজ ছেঁচে রস ভ্রু’র নিচে তুলো দিয়ে লাগিয়ে নিন এবং শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে আরও কয়েক প্রলেপ দিন।

৪/মেথি: কয়েকদানা মেথি পেস্ট করে লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রে মেথির সঙ্গে আমন্ড অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন তাতে ত্বক আর্দ্রতা পাবে। এই মিশ্রণ রাতে ঘুমের আগে লাগিয়ে শোবেন এবং সকালে ধুয়ে ফেলবেন।

৫/দুধ: দুধ এমন একটি জিনিস যার পুষ্টি ও উপকারিতার শেষ নেই। দুধে তুলোর বল ডুবিয়ে ভ্রুতে মালিশ করুন। এর প্রাকৃতিক উপাদান ভ্রু’র চুলের গোঁড়া পর্যন্ত গিয়ে একে পুষ্টি যোগাবে এবং সেই সঙ্গে দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

৬/ঘৃতকুমারী: ভ্রু বেশি প্লাক করার কারণে পাতলা হয়ে গিয়ে থাকলে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোয়েভেরার রস ভ্রু গজাতে সাহায্য করবে। ঘৃতকুমারীর পাতা ছেঁচে সেটার রস ভ্রুর উপরে লাগান। এর ভেষজ প্রভাব ভ্রু গজাতে সাহায্য করে।

উপরের যেকোনো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেন কোনটি ভ্রু’র বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ একেক জনের ত্বক একেক রকম হওয়ার কারণে একেকটা জিনিসের প্রভাব একেকভাবে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *